রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস নৈরাজ্য ও বিশৃংখলার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘সড়কে নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা উত্তরণের উপায়’ র্শীষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ অভিযোগ করেন। নৈরাজ্য ঠেকাতে ১০ টি সুপারিশ তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বক্তারা বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশের গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছে, বাসে-বাসে রেষারেষি করে বেপরোয়া চলাচল ও পাল্লা-পাল্লির কারনে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রীরা। যত্রতত্র বাস থামানো, রাস্তার মাঝ পথে গতি কমিয়ে চলন্ত বাসে যাত্রী উঠানামা করানো, ট্রাফিক আইন লংঘন, রাস্তার মোড়ে বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানো নামানো, যাত্রী ধরার জন্য বাসে বাসে ভয়ংকর প্রতিযোগীতা, অব্যবস্থাপনা ও বিশৃংখলা ঢাকার গণপরি-বহনের নিত্যদিনের চিত্র। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে নিবন্ধিত ৩১ লাখ যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে অনিবন্ধিত, ভুয়া নাম্বারধারী ও অযান্ত্রিক যান মিলে প্রায় ৫০ লাখ যানবাহন রাস্তায় চলছে যার ৭২ শতাংশ ফিটনেস অযোগ্য। অন্যদিকে সারাদেশে ৭০ লাখ চালকের মধ্যে বিআরটিএ লাইসেন্স আছে মাত্র ১৬ লাখ চালকের হাতে। রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস ট্রাফিক আইন লংঘন করে বেপরোয়া চলাচল করে, ফলে এসব বাসে দুর্ঘটনায় কারো হাত, কারো পা, কারো মাথা, বা কারো জীবন চলে যাচ্ছে। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ সেলের তথ্যমতে সারাদেশে জানুয়ারী ২০১৮ থেকে ২০ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত ১৭৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৪১ জনের প্রাণহানী ৫৪৭৭ জন আহত হয়েছে। এখানে পঙ্গু হয়েছে ২৮৮ জন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়রম্যান কাজী রিয়াজুল হক, ডিটিসিএ’র সাবেক নিবার্হী পরিচালক গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম তালুকদার প্রমুখ।
মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা এসব দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলতে চাই। কেননা সড়কে সমস্ত অব্যবস্থাপনা ও বিশৃংখলা জিইয়ে রেখে নৈরাজ্যকর পরিবেশে আমাদের যাতায়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি বাস-মিনিবাসের ব্যবসা মূলত চালকরা নিয়ন্ত্রন করছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে নতুন যে আইন করা হচ্ছে তাতে সবার মতামতের প্রতিফলন হয়নি। ফলে এই সেক্টরের সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা কঠিন। তিনি প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন বিল আকারে পাশ করার আগে সবার মতামত নিয়ে সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আইনে সন্নিবেশনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নৈরাজ্য ঠেকাতে সমিতির তুলে ধরা সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীতে বাসে-বাসে প্রতিযোগিতা বন্ধে কোম্পানি ভিক্তিক একই কালারের বাস সার্ভিস চালু করা, উন্নত বিশ্বের আদলে আমলাতন্ত্রের বাইরে এসে পেশাদারিত্ব সম্পন্ন গণপরিবহন সার্ভিস অথরিটির নামে একটি টিম গঠন করা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত এই টিম নগর জুড়ে গণপরিবহনের সমস্যা সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রতিদিনের সমস্যা প্রতিদিন সমাধান করে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা একটি শৃংখলায় নিয়ে আসবেন এবং সড়কের সুষ্টু ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। গণপরিবহনের মান, যাত্রী সেবার মান, বাস টার্মিনালের পরিবেশ, যাত্রী ও গণপরিবহন সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা তাত্ক্ষণিক সমাধান করবেন। ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ ও অনান্য সেবাদান প্রতিষ্ঠান সমূহ এই টিমের নির্দেশনা মানতে বাধ্য থাকবে। এই ধরণের একটি টিম জরুরী ভিক্তিতে গঠন করা, ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনা, চালকের হাতে দৈনিক জমা ভিত্তক বাস ইজারা দেওয়া বন্ধ করা, বিআরটিএ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা জনবান্ধব করতে হবে। এই আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে, ট্রাফিক পুলিশের মামলার জরিমানা সরাসরি ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান নিশ্চিত করতে হবে, সড়কে চাঁদাবাজী, টোকেন বাণিজ্য, দখলবাজী, হকার ও অনান্যদের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, রুট পারমিট ইস্যু প্রক্রিয়ায় ঢাকা মেট্রো আরটিসিতে মালিক শ্রমিক নেতাদের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন লোকজন নিয়ে পূনর্গঠন করতে হবে, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে, পরিবহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় যাত্রী সাধারণের অভাব অভিযোগ তুলে ধরা ও মত প্রকাশের স্বার্থে যাত্রী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
source: ইত্তেফাক
বক্তারা বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশের গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছে, বাসে-বাসে রেষারেষি করে বেপরোয়া চলাচল ও পাল্লা-পাল্লির কারনে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রীরা। যত্রতত্র বাস থামানো, রাস্তার মাঝ পথে গতি কমিয়ে চলন্ত বাসে যাত্রী উঠানামা করানো, ট্রাফিক আইন লংঘন, রাস্তার মোড়ে বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানো নামানো, যাত্রী ধরার জন্য বাসে বাসে ভয়ংকর প্রতিযোগীতা, অব্যবস্থাপনা ও বিশৃংখলা ঢাকার গণপরি-বহনের নিত্যদিনের চিত্র। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে নিবন্ধিত ৩১ লাখ যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে অনিবন্ধিত, ভুয়া নাম্বারধারী ও অযান্ত্রিক যান মিলে প্রায় ৫০ লাখ যানবাহন রাস্তায় চলছে যার ৭২ শতাংশ ফিটনেস অযোগ্য। অন্যদিকে সারাদেশে ৭০ লাখ চালকের মধ্যে বিআরটিএ লাইসেন্স আছে মাত্র ১৬ লাখ চালকের হাতে। রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস ট্রাফিক আইন লংঘন করে বেপরোয়া চলাচল করে, ফলে এসব বাসে দুর্ঘটনায় কারো হাত, কারো পা, কারো মাথা, বা কারো জীবন চলে যাচ্ছে। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ সেলের তথ্যমতে সারাদেশে জানুয়ারী ২০১৮ থেকে ২০ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত ১৭৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৪১ জনের প্রাণহানী ৫৪৭৭ জন আহত হয়েছে। এখানে পঙ্গু হয়েছে ২৮৮ জন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়রম্যান কাজী রিয়াজুল হক, ডিটিসিএ’র সাবেক নিবার্হী পরিচালক গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম তালুকদার প্রমুখ।
মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা এসব দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলতে চাই। কেননা সড়কে সমস্ত অব্যবস্থাপনা ও বিশৃংখলা জিইয়ে রেখে নৈরাজ্যকর পরিবেশে আমাদের যাতায়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি বাস-মিনিবাসের ব্যবসা মূলত চালকরা নিয়ন্ত্রন করছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে নতুন যে আইন করা হচ্ছে তাতে সবার মতামতের প্রতিফলন হয়নি। ফলে এই সেক্টরের সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা কঠিন। তিনি প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন বিল আকারে পাশ করার আগে সবার মতামত নিয়ে সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আইনে সন্নিবেশনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নৈরাজ্য ঠেকাতে সমিতির তুলে ধরা সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীতে বাসে-বাসে প্রতিযোগিতা বন্ধে কোম্পানি ভিক্তিক একই কালারের বাস সার্ভিস চালু করা, উন্নত বিশ্বের আদলে আমলাতন্ত্রের বাইরে এসে পেশাদারিত্ব সম্পন্ন গণপরিবহন সার্ভিস অথরিটির নামে একটি টিম গঠন করা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত এই টিম নগর জুড়ে গণপরিবহনের সমস্যা সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রতিদিনের সমস্যা প্রতিদিন সমাধান করে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা একটি শৃংখলায় নিয়ে আসবেন এবং সড়কের সুষ্টু ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। গণপরিবহনের মান, যাত্রী সেবার মান, বাস টার্মিনালের পরিবেশ, যাত্রী ও গণপরিবহন সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা তাত্ক্ষণিক সমাধান করবেন। ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ ও অনান্য সেবাদান প্রতিষ্ঠান সমূহ এই টিমের নির্দেশনা মানতে বাধ্য থাকবে। এই ধরণের একটি টিম জরুরী ভিক্তিতে গঠন করা, ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনা, চালকের হাতে দৈনিক জমা ভিত্তক বাস ইজারা দেওয়া বন্ধ করা, বিআরটিএ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা জনবান্ধব করতে হবে। এই আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে, ট্রাফিক পুলিশের মামলার জরিমানা সরাসরি ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান নিশ্চিত করতে হবে, সড়কে চাঁদাবাজী, টোকেন বাণিজ্য, দখলবাজী, হকার ও অনান্যদের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, রুট পারমিট ইস্যু প্রক্রিয়ায় ঢাকা মেট্রো আরটিসিতে মালিক শ্রমিক নেতাদের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন লোকজন নিয়ে পূনর্গঠন করতে হবে, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে, পরিবহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় যাত্রী সাধারণের অভাব অভিযোগ তুলে ধরা ও মত প্রকাশের স্বার্থে যাত্রী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
source: ইত্তেফাক
Comments
Post a Comment