Skip to main content

বাবা আমার পা কে কেটে দিয়েছে?

‘মা আমি কি আর আগের মত হাঁটতে পারব না? আমার একটি পা নাই কেন? বাবা আমার পা কে কেটে দিয়েছে? আমার লাল জামাটা কই?
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই একের পর এক প্রশ্ন করছিল আর কাঁদছিল শিশু সুমাইয়া আক্তার মেঘলা।
রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার সাড়ে ৩ বছরের এই শিশুটি রোববার রাতে মাহিগঞ্জ কলেজ রোডে ট্রাকের চাপায় ডান পা হারিয়েছে। 
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি রাইস মিলে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। থাকেন মাহিগঞ্জ কসাইটুলিতে। এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সুমাইয়াই বড়।
রফিকুল ইসলাম বলেন, রোরবার রাতে মা কাজলি বেগমের সাথে বাজারে লাল জামা কিনতে যায় সুমাইয়া। এরপর কলেজ রোডের চাতালে এসে জামাটি আমাকে দেখায়। এসময় আমি তাকে বাড়ি যেতে বলি।
তিনি বলেন, পরে সে চাতাল থেকে রংপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়কে ওঠামাত্র একটি বেপরোয়ারা ইটবোঝাই ট্রাক সুমাইয়ার উপর দিয়ে চলে যায়। এতে আমার মেয়ের পা থেঁতলে রাস্তার সঙ্গে মিশে যায়। পরে দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আসার পর সোমবার সুমাইয়ার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। 
রফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। চিকিৎসায় আরও কত টাকা লাগবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি। 
এ সময় তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দোষী ট্রাক চালকের ফাঁসি দাবি করেন।
সুমাইয়ার মা কাজলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েটা পঙ্গু হয়ে গেল। ট্রাকটি আমার মেয়েকে পঙ্গু বানিয়ে দিল। আমি এর বিচার চাই,  চালকের শাস্তি চাই। 
তিনি বলেন, মেয়েটি বাব বার আমাকে বলছে, ‘মা আমি কি আর হাঁটতে পারব না। আমার পা কে কেটে দিয়েছে।’ 
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, সুমাইয়ার ডান পা ট্রাকের চাপায় থেঁতলে গিয়েছিল। তাই  পা’টি হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। শিশুটি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। তার চিকিৎসায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।
মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। চালক ও হেলপারকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

Comments

Popular posts from this blog

বাসের ধাক্কায় মায়ের হাতে থেকে ছিটকে প্রাণ গেল শিশুর

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পেরুনোর সময় বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে একটি শিশু। বুধবার দুপুর ১টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম মিলন (৬)। বাসের ধাক্কার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, “যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তায় বেলা ১টার দিকে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিল মিলন। এসময় একটি যাত্রীবাহী বাস মিলনকে ধাক্কা দিলে সে ছিটকে পড়ে যায়।” ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মিলন তার পরিবারের সঙ্গে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে থাকত। তার বাড়ি গাইবান্ধায়। পুলিশ বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। Source : Bdnews24

টাঙ্গাইলে আবার ‘আমানুর–আতঙ্ক’

টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন গত পাঁচ বছর ছিল শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) ও তাঁর তিন ভাইয়ের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্যও ছিল স্বস্তির। আমানুরের জামিনে মুক্তি এবং আবার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলে এই ‘আমানুর–আতঙ্কের’ কথা জানা গেছে। আমানুর ৩৪ মাস কারাগারে থাকার পর গত ৯ জুলাই জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে নিজের এলাকা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ও ঢাকায় থাকছেন। মাঝেমধ্যে টাঙ্গাইল শহরেও থাকছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। আমানুর ও তাঁর ভাইদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। তিনি এখন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য। তানভীর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা আমানুরের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কখন কী হয়—সারা শহরে এমন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘...
বিয়ে করেছেন গুলতেকিন খান। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদকে বিয়ে করেন তিনি। নতুন এই দম্পতির পরিবারসূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি ঢাকাতেই ছোট পরিসরে গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদের কবি এবং লেখক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান। গুলতেকিনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আফতাব আহমদ আগে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। আফতাব আহমদ অভিনেত্রী আয়েশা আখতারের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন।  আফতাব আহমদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। গেল ২ আগস্ট আফতাব আহমদের জন্মদিনে গুলতেকিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি কবিতা পোস্ট করেন— তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে গুলতেকিন খান (আফতাব আহমেদ, জন্মদিনে, তোমাকে...) তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে লিখবো বলে যখন ভাবি ছিপের তিন মাল্লা মিলে হারিয়ে ফেলে নাকের ছবি যখন ভাবি তোমায় নিয়ে উঠবো গিয়ে নতুন তীরে শ্যাওলা জলে নোলক...