Skip to main content

প্লাস্টিকের অতি ব্যবহারে মানুষ ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : পৃথিবী বাঁচলে, মানুষ বাঁচবে, কিন্তু পলিথিন, প্লাস্টিক ও পলিমার জাতীয় অন্যান্য বস্তু সামগ্রী পচনশীল নয়। প্লাস্টিক জাতীয় বস্তু ব্যবহার আমাদের জীবনে অনিবার্য হয়ে গেছে, যেখানে জীবন রক্ষাকারী পানি, খাবার, শিশু খাদ্য, কোমল পানীয় এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের বোতল তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক দিয়ে। আর এ প্লাস্টিক পচনশীল না হবার কারণে পৃথিবী ধ্বংসের অন্যতম কারণ। 
প্লাস্টিকের অতি ব্যবহারের কারণে মানুষ ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতি রোগে যে রকম আক্রান্ত হচ্ছে তেমনি নদী, নালা ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে সভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করেছেন কিন্তু আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত না করে জনসচেতনতাকে দায়ী করছেন। ফলে যত্রতত্র পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা যেরকম বাড়ছে তেমনি এর ব্যবহারও সহজলভ্য হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনী অঙ্গীকার দিয়ে ক্লিন ও গ্রীন সিটি রূপান্তরের ঘোষণা দিলেও যত্রতত্র চিপস, পিট বোতলসহ নানা অপচনশীল ময়লা, আবর্জনা ফেলা, নালা নর্দমা ভরাট করে পুরো নগরী যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হলেও সিটি কর্পোরেশন এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে নগরবাসী জলাবদ্ধতায় আতংকিত এবং চট্টগ্রাম নগরী জলম্গ্ন ও তলিয়ে যাবার আশংকা। তাই পলিথিন নিষিদ্ধ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করে নগরীকে বসবাসযোগ্য করা, সত্যিকারের ক্লিন ও গ্রীন সিটিতে রূপান্তরের জন্য সরকার ও সিটি কর্পোরেশন’র প্রতি দাবি জানান।
চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ), আমেরিকান কর্ণার চট্টগ্রাম ও কনজুমারস অ্যাসোশিয়েন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রামে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠনের যৌথ অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রি দিবস উদযাপন উপলক্ষে “প্লাস্টিককে না বলুন” শীর্ষক মানব বন্ধনে বিভিন্ন বক্তারা এ মন্তব্য করেন।
 কনজুমারস অ্যাসোশিয়েন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আমেরিকান কর্ণার চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রুমা দাশ, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)’র ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার আনজুমান বানু লিমা, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ আবদুল মান্নান, সংসপ্তকের সভাপতি আফরোজা নাহার চৌধুরী, সংসপ্তকের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ বড়–য়া, বিবিএফ’র প্রধান নির্বাহী উৎফল বড়–য়া, নারী নেত্রী সালমা জাহান মিলি, ক্যাব চট্টগ্রাম নগর যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, নোমান উল্লাহ বাহার, ক্যাব নেতা শাহীন চৌধুরী, সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা স্কাউটস এর সাবেক সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি সোমিয়া সালাম, নার্গিস চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী তুষার, দেশ টিভির প্রতিনিধি আলমগীর সবুজসহ বিভিন্ন যুব প্রতিনিধিরা। ক্যাব বিভাগীয় সংগঠক জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানব বন্ধন কর্মসুচিতে ক্যাব, ক্যাব ইয়্যুথ গ্রুপ, সংশপ্তক, ইপসা, বিবিএফ, উপলা, হেপা, ভিবিডি, সিআইইউ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, সিআইইউ রোবোটিকস ক্লাব, হোয়াই বোর্ড সায়েন্স ক্লাব, বেল্টা চট্টগ্রাম (দক্ষিণ), নারী যোগাযোগ কেন্দ্র, সিনে তারুণ্যও  ড্রিম ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
 বক্তাগণ বিশ্ব ধরিত্রি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হল পলিথিন বা প্লাস্টিক। যত্রতত্র ও যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে এ উপকরণগুলো ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের অজান্তে প্রতি মুহুর্তেই আমরা গ্রহণ করে চলেছি বিষটোপ। বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি যেসব পিট বোতল, বক্স, কাপ, পিরিচ, প্লেট, চামচ সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী বলে খাবার পরিবেশনে ও খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার করছি, এর বিন্দু বিন্দু বিষক্রিয় আমাদের শরীরে জমা হচ্ছে। এসব তৈজসপত্র মুলক গরম খাবার পরিবেশন উপযোগী নয়, অথচ আমরা নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘেœ এসব ব্যবহার করছি। প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে সকলকে সচেতন হবার পাশাপাশি স্ব স্ব অবস্থানে এর ব্যবহার হ্রাসে প্রচারণা চালানোর আহবান জানানো হয়। বক্তারা আরো বলেন, এখনই সময় এসেছে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে এনে ভবিষ্যত প্রজন্ম ও পরিবেশকে বাঁচাতে সকলকে “প্লাস্টিককে না বলা”। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য “প্লাস্টিককে না” বলুন সামাজিক জনসচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্টেহোল্ডারদের সাথে নিয়ে আমেরিকান কর্ণার চট্টগ্রাম ও কনজুমারস অ্যাসোশিয়েন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও যুব সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

Source: সংগ্রাম

Comments

Popular posts from this blog

বাসের ধাক্কায় মায়ের হাতে থেকে ছিটকে প্রাণ গেল শিশুর

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পেরুনোর সময় বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে একটি শিশু। বুধবার দুপুর ১টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম মিলন (৬)। বাসের ধাক্কার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, “যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তায় বেলা ১টার দিকে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিল মিলন। এসময় একটি যাত্রীবাহী বাস মিলনকে ধাক্কা দিলে সে ছিটকে পড়ে যায়।” ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মিলন তার পরিবারের সঙ্গে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে থাকত। তার বাড়ি গাইবান্ধায়। পুলিশ বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। Source : Bdnews24

টাঙ্গাইলে আবার ‘আমানুর–আতঙ্ক’

টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন গত পাঁচ বছর ছিল শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) ও তাঁর তিন ভাইয়ের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্যও ছিল স্বস্তির। আমানুরের জামিনে মুক্তি এবং আবার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলে এই ‘আমানুর–আতঙ্কের’ কথা জানা গেছে। আমানুর ৩৪ মাস কারাগারে থাকার পর গত ৯ জুলাই জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে নিজের এলাকা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ও ঢাকায় থাকছেন। মাঝেমধ্যে টাঙ্গাইল শহরেও থাকছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। আমানুর ও তাঁর ভাইদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। তিনি এখন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য। তানভীর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা আমানুরের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কখন কী হয়—সারা শহরে এমন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘...
বিয়ে করেছেন গুলতেকিন খান। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদকে বিয়ে করেন তিনি। নতুন এই দম্পতির পরিবারসূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি ঢাকাতেই ছোট পরিসরে গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদের কবি এবং লেখক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান। গুলতেকিনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আফতাব আহমদ আগে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। আফতাব আহমদ অভিনেত্রী আয়েশা আখতারের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন।  আফতাব আহমদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। গেল ২ আগস্ট আফতাব আহমদের জন্মদিনে গুলতেকিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি কবিতা পোস্ট করেন— তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে গুলতেকিন খান (আফতাব আহমেদ, জন্মদিনে, তোমাকে...) তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে লিখবো বলে যখন ভাবি ছিপের তিন মাল্লা মিলে হারিয়ে ফেলে নাকের ছবি যখন ভাবি তোমায় নিয়ে উঠবো গিয়ে নতুন তীরে শ্যাওলা জলে নোলক...