Skip to main content

শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদটুকুও করা হলো না

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী প্যারিস রোডে একত্রিত হন শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদ জানাতে। বাবার হত্যার প্রতিবাদ জানাতে। বিস্তৃত প্যারিস রোডের বুকে ফাঁসির দড়ির আলপনা আঁকাতে, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে পিতার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রশাসন। পিতা হত্যার আর প্রতিবাদ করতে পারে না তারা। 
২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার দুই বছর পূর্তি হয়। তার স্মরণে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও আলপনা আঁকতে চেয়েছিল। কিন্তু এভাবেই তাদের সবকিছু নস্যাৎ হয়ে যায়। 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ভদ্রভাবে অনুরোধ করার পরও তিনি তাদের বাধা দেন। এমনকি রাত ৯টার পর শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রাম করার নির্দেশ দেন তিনি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, আজ নির্বাচন অথচ তারা গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি বাধা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল সন্ধ্যায় বিভাগের সামনে প্যারিস রোডে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করার এবং রোডের উপরে ফাঁসির দড়ির আলপনা করার। আজ শিক্ষকদের নির্বাচন ছিল। নির্বাচনে তো তিনটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। তাই আমরা সন্ধ্যায় আলপনা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমরা রোডের দুই পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে দিয়েছি। কোন বড় গাড়ি আসলে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা রাস্তার দুই পাশে চারজনকে রেখেছিলাম। গাড়িওয়ালাকে অনুরোধ করে একটু ঘুরে চলাচলকে করতে বলার জন্য। আমরা ভদ্রভাবে অনুরোধ করেই কাজ করছিলাম।
আমাদের কাজ শুরুর ১৫ মিনিটের মত হয়েছে, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়ইনি, এর মধ্যেই প্রক্টর স্যার এসে আমাদের সবকিছু বন্ধ করে দেন। আমরা অনুরোধ করে বলেছিলাম, আমাদের এই কারণে এই প্রোগ্রাম। উনি বলেছেন, যা করার রাতে করতে। আগে বলেছেন রাত ১০ টা পরে ৯টার কথা। কিন্তু রাতে তো আর এই প্রোগ্রাম করা সম্ভব নয়। তাছাড়া স্যারের মৃত্যুবার্ষিকী তো আজ। আমরা চাইছিলাম, ওইখানে শুধু একটা ফাঁসির দড়ির আলপনা থাক। কিন্তু তা হলো না।
শিক্ষার্থীরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনুরোধ করার পরও প্রক্টর স্যার আমাদের বাধা দিলেন, আমাদের কাঁচা রঙ্গের ওপর দিয়েই গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন। ওনার পরে দেখাদেখি আরো অনেকেই যায়। আমরা আমাদের স্যারের মৃত্যুবার্ষিকীতে সামান্য আলপনা করতে পারলাম না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন চলছে। অসংখ্য শিক্ষকের গাড়ি যাতায়াত করছে। তারা এর মধ্যেই রাস্তা বন্ধ করে আলপনা করছিল। সব শিক্ষক অভিযোগ করা শুরু করেছে। একের পর এক তারা ফোন করে অভিযোগ করছেন, রাস্তা বন্ধ কেন? সেই জন্যই তাদের বলা হয়েছে রাত ৮টার পর করতে। বন্ধ করা হয়নি।
নির্বাচনের দিনে ওরা সিনেট ভবন থেকে মমতাজ উদ্দিন কলা ভবন যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত যাতায়াত বন্ধ করেছে। আজকে তো অহরহ গাড়ি চলছে। শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। ওরা বলছিল, কেন এটা করছে। কিন্তু আজকের দিনে রাস্তা বন্ধ করে এটা করা তো ঠিক হবে না। তাই বলা হয়েছে রাত ৮টার পর করতে।
২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় অধ্যাপক রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রেজাউস সাদিক। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার ৮ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

Comments

Popular posts from this blog

বাসের ধাক্কায় মায়ের হাতে থেকে ছিটকে প্রাণ গেল শিশুর

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পেরুনোর সময় বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে একটি শিশু। বুধবার দুপুর ১টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম মিলন (৬)। বাসের ধাক্কার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, “যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তায় বেলা ১টার দিকে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিল মিলন। এসময় একটি যাত্রীবাহী বাস মিলনকে ধাক্কা দিলে সে ছিটকে পড়ে যায়।” ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মিলন তার পরিবারের সঙ্গে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে থাকত। তার বাড়ি গাইবান্ধায়। পুলিশ বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। Source : Bdnews24

টাঙ্গাইলে আবার ‘আমানুর–আতঙ্ক’

টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন গত পাঁচ বছর ছিল শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) ও তাঁর তিন ভাইয়ের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্যও ছিল স্বস্তির। আমানুরের জামিনে মুক্তি এবং আবার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলে এই ‘আমানুর–আতঙ্কের’ কথা জানা গেছে। আমানুর ৩৪ মাস কারাগারে থাকার পর গত ৯ জুলাই জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে নিজের এলাকা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ও ঢাকায় থাকছেন। মাঝেমধ্যে টাঙ্গাইল শহরেও থাকছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। আমানুর ও তাঁর ভাইদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। তিনি এখন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য। তানভীর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা আমানুরের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কখন কী হয়—সারা শহরে এমন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘...
বিয়ে করেছেন গুলতেকিন খান। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদকে বিয়ে করেন তিনি। নতুন এই দম্পতির পরিবারসূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি ঢাকাতেই ছোট পরিসরে গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদের কবি এবং লেখক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান। গুলতেকিনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আফতাব আহমদ আগে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। আফতাব আহমদ অভিনেত্রী আয়েশা আখতারের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন।  আফতাব আহমদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। গেল ২ আগস্ট আফতাব আহমদের জন্মদিনে গুলতেকিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি কবিতা পোস্ট করেন— তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে গুলতেকিন খান (আফতাব আহমেদ, জন্মদিনে, তোমাকে...) তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে লিখবো বলে যখন ভাবি ছিপের তিন মাল্লা মিলে হারিয়ে ফেলে নাকের ছবি যখন ভাবি তোমায় নিয়ে উঠবো গিয়ে নতুন তীরে শ্যাওলা জলে নোলক...