দেহব্যবসায় যুক্ত পরিবারের সন্তানদের সুরক্ষার নাম করে বিদেশ থেকে অর্থ আনছে ‘শাপলা মহিলা সংস্থা’ নামে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। কিন্তু ওই সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধেই এক কিশোরীকে জোর করে দেহব্যবসায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে গতকাল সোমবার সংস্থাটির তিন কর্মী ও যৌনপল্লী থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, শাপলা মহিলা সংস্থার অফিস সহকারী রিনা সাহা (৩৮), অফিসের নৈশপ্রহরী ইউনুস শেখ (৪০), আয়া রুবি আক্তার (৫০) ও যৌনপল্লীর নারী সর্দার তানিয়া বেগম। তাদের গতকাল থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বাড়ি ১৬ বছরের ওই কিশোরীর। বাবা মারা যাওয়ায় পুরো সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। পরে সে চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে।
গত রোববার সকালে বাড়ি থেকে কারখানায় যাচ্ছিল ওই কিশোরী। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে বেশি বেতনে অন্য কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে সেখান থেকে ওই কিশোরীকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে সেই চক্রটি। জ্ঞান ফেরার পর ওই কিশোরী দেখে, সে ফরিদপুরের রথখোলা যৌনপল্লীতে রয়েছে।
ওই কিশোরী বলে, 'গতকাল সোমবার যৌনপল্লীতে থাকা দুই নারী তাকে সহযোগিতা করার কথা বলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে আদালত পাড়ায় নিয়ে যায়। আদালত পাড়ায় নেওয়ার পর ওই দুই নারীর কথা-বার্তায় আমার সন্দেহ হয়। আমি বুঝতে পারি, ওরা আমাকে নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছে।’
সে আরও বলে, ‘আমাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার জন্য আদালতে অ্যাফিডেভিট (হলফনামা) করা হবে—এটি বুঝতে পেরে আমি খাবারের কথা বলে আদালত এলাকা থেকে বের হয়ে আসি। পরে হোটেলে গিয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাপলা মহিলা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে যৌনপল্লীতে কাজ করছে। যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করার আড়ালে তাদের কর্মীরা নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংস্থার পরিচালককে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
শাপলা মহিলা সংস্থার পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীদের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কিভাবে কী হয়ে গেল, বুঝতে পারছি না। বর্তমানে আমি ফরিদপুরের বাইরে আছি। এ বিষয়ে ফরিদপুরে এসে কথা বলব।’
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেহব্যবসার কাজের হলফনামা করতে তারা কিশোরীকে আদালতপাড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। কিশোরীর চিৎকারে স্থানীয়রা তাদের ধরে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে এনজিওর তিন কর্মী এবং যৌনপল্লী থেকে আরেকজনকে আটক করা হয়। তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
Source: আমাদের সময়
Comments
Post a Comment