Skip to main content

৪০ বছর ধরে হাট বাজারে কবিতার বই বিক্রি করে চলেছে রশিদের সংসার


মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : তেরোশ পঁয়ষট্রি সালে এ ঘটনা বরিশালে, হয়েছিল পাতার হাট থানায়। সে দেশে এক কৃষক ছিল, গরিব ছিল অতিশয়.....
এরকম হাজারো গদ্য কবিতা পাঠ করে বাজারে বাজারে কবিতার বই বিক্রি করে চলছে আব্দুল রশিদের জীবন। বিগত ৪০ বছর ধরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী, ধলাপাড়া, গারোবাজার, সখীপুর উপজেলার বড়চওনা এবং কচুয়া বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে গানের শুরে কবিতা গেয়ে বই বিক্রি করতেন তিনি। কবিতার বই, ছোটদের নানা গল্প আর গজলের বই ছাড়াও বিক্রি করার জন্য রশিদের হাতে থাকতো হিমকুসুম নারিকেল তৈল আর কাঠের চিরনি। ছন্দের তালে তালে গ্রামীন হাট বাজারের মানুষদের আকৃষ্ট করে বই বিক্রি করাই ছিল রশিদের নেশা। কিন্তু ডিজিটাল যুগে অচল প্রায় গ্রাম বাংলার সেই গদ্য কবিতার চাহিদা।
৭৫ বছর বয়সী এই বইবিক্রেতা আ. রশিদের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মধুপুরচালা গ্রামে। ৪ ছেলে মেয়ে ও ৮ নাতি নাতনী নিয়ে রশিদের সংসার। প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার সাগরদিঘী বাজারে বই বিক্রি করতে আসেন তিনি। গত শনিবার এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় আ. রশিদের। কবিতা প্রেমী রশিদের সাথে কথা বলার সময় ৪০ বছরের স্মৃতির সাগরে হারিয়ে যান তিনি। তিনি জানান, ৪০ বছর আগে থেকে গদ্য কবিতা, বাউল গান, ছোটদের গল্পের বই এবং ছন্দের বই বিক্রি করে তার সংসার চলে। শাজাহান ও নূরজাহানের প্রেম কাহিনী, মেয়ের সাথে মেয়ের বিয়ে, সতীনের হাতে পাপীয়ার মৃত্যু, লতার প্রেম কাহিনী, মামলার সাক্ষী ময়না পাখিসহ অসংখ্য গদ্য কবিতার পাতা বিক্রি করতেন তিনি।  তিনি আরো জানান, অতীতে বৃষ্টির সময় কাচারী ঘরে বা জোসনা রাতে গ্রামের উঠানে বসে পুঁথি, গদ্য কাবিতা ও কিচ্ছা কাহিনী শোনার আসর বসত কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব কেবল স্মৃতি।
কালের আবর্তে বিলুপ্ত হয়ে গেছে পুঁথি পাঠ আর গদ্য কবিতার আসর কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি কবিতা প্রেমী রশিদের সেই নেশা। তাই এখনো তিনি বাজারে বাজারে শিশুদের বই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রতিদিন বই বিক্রি করে তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার করেন।
সাগরদিঘী এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী সন্তুশ সাহা জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে রশিদ বিভিন্ন কবিতার ছন্দে ছন্দে কাগজ বিক্রি করে মানুষকে আনন্দ দিতেন নিজেও আনন্দ পেতেন। কবিতা প্রিয় আ. রশিদ বলেন, কবিতা, গান আর ছন্দ ছিল আমার প্রাণ। কিন্তু মোবাইলের যুগে কেউ এখন আর কবিতার কাগজ কিনে না। তাই বাধ্য হয়েই এখন শিশুদের বই বিক্রি করে এই পেশাকে ধরে রেখেছি।

Source: সংগ্রাম

Comments

Popular posts from this blog

বাসের ধাক্কায় মায়ের হাতে থেকে ছিটকে প্রাণ গেল শিশুর

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পেরুনোর সময় বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে একটি শিশু। বুধবার দুপুর ১টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম মিলন (৬)। বাসের ধাক্কার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, “যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তায় বেলা ১টার দিকে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিল মিলন। এসময় একটি যাত্রীবাহী বাস মিলনকে ধাক্কা দিলে সে ছিটকে পড়ে যায়।” ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মিলন তার পরিবারের সঙ্গে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে থাকত। তার বাড়ি গাইবান্ধায়। পুলিশ বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। Source : Bdnews24

টাঙ্গাইলে আবার ‘আমানুর–আতঙ্ক’

টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন গত পাঁচ বছর ছিল শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) ও তাঁর তিন ভাইয়ের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্যও ছিল স্বস্তির। আমানুরের জামিনে মুক্তি এবং আবার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলে এই ‘আমানুর–আতঙ্কের’ কথা জানা গেছে। আমানুর ৩৪ মাস কারাগারে থাকার পর গত ৯ জুলাই জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে নিজের এলাকা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ও ঢাকায় থাকছেন। মাঝেমধ্যে টাঙ্গাইল শহরেও থাকছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। আমানুর ও তাঁর ভাইদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। তিনি এখন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য। তানভীর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা আমানুরের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কখন কী হয়—সারা শহরে এমন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘...
বিয়ে করেছেন গুলতেকিন খান। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদকে বিয়ে করেন তিনি। নতুন এই দম্পতির পরিবারসূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি ঢাকাতেই ছোট পরিসরে গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদের কবি এবং লেখক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান। গুলতেকিনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আফতাব আহমদ আগে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। আফতাব আহমদ অভিনেত্রী আয়েশা আখতারের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন।  আফতাব আহমদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। গেল ২ আগস্ট আফতাব আহমদের জন্মদিনে গুলতেকিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি কবিতা পোস্ট করেন— তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে গুলতেকিন খান (আফতাব আহমেদ, জন্মদিনে, তোমাকে...) তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে লিখবো বলে যখন ভাবি ছিপের তিন মাল্লা মিলে হারিয়ে ফেলে নাকের ছবি যখন ভাবি তোমায় নিয়ে উঠবো গিয়ে নতুন তীরে শ্যাওলা জলে নোলক...